ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জ শহরে চুরির অপবাদে ১১ বছরের এতিম শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নুরুল হক ও জসিম মিয়া নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টায় শহরের রাজনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে দুপুর ১২ টার দিকে উল্লেখিতরা ওই শিশুকে এতিম খানায় জিম্মায় দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
এদিকে, সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মো. নুরুল হককে আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান,গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় শহরের রাজনগর এলাকায় হবিগঞ্জ ইসলামিয়া এতিমখানার ৫ম শ্রেণির ছাত্র নাঈম হাসান পাশে নিমার্ণাধীন একটি ভবনের ছাদে ঘুড়ি উড়াতে যায়। এ সময় ছাদে একটি প্যান্টের বেল্ট পড়ে থাকতে দেখে নাঈম। তখন সে বেল্টটি উঠালে ভবনের এক নির্মাণ শ্রমিক তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটক করে। এক পর্যায়ে ওই এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ওই ভবনের মালিক মো. নুরুল হক ও জসিম মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি এসে তাকে খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধোর করেন।
মারধোরের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই শিশুকে এতিমখানার জিম্মায় দেয় তারা। এ সময় শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার সহপাঠীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। সন্ধ্যায় এতিমখানা এলাকায় মো. নুরুল হককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। পুলিশ নূরুল হক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




