ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলায় এ বছর আগাম ও নতুন জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো জমিগুলো এখন সোনালি রঙ ধারণ করেছে। উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন হাওরে এরই মধ্যে আগাম ও নতুন জাতের ধান পাকা কাটা শুরু হয়েছে।
তবে হাওর এলাকায় বোরো ধান চাষিরা আগাম শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে, যা হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। লাখাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ। তবু লাখাই উপজেলা কৃষি অফিস হাওরাঞ্চলের কৃষকদেরকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে জমির পাকা বোরো ধান কর্তনের আহŸান জানিয়েছে।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হবে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আশা করছি এবারও কাক্সিক্ষত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।
উপ-কৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্য বুধবার লাখাইয়ের স্বজন গ্রামের জরিপপুর হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপকালে বলেন, হাইব্রিড ধান ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলতে হবে। কর্তনে সহায়তার জন্য একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শ্রমিক ও যন্ত্রচালিত হারভেস্টার সংগ্রহ, ধান কর্তনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন। ধান কর্তনের পর তা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পলিথিন বা ত্রিপল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের বর্তমান পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রæত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এপ্রিলের শেষ ভাগে বৃষ্টিতে, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবারও একই আশঙ্কা ঘিরে কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




