জৈন্তাপুরের গোল-মরিচের চারা সরবরাহ হচ্ছে সারা দেশে
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০২ AM

জৈন্তাপুরের গোল-মরিচের চারা সরবরাহ হচ্ছে সারা দেশে

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৪ ০৪:২৩:২৭ AM

জৈন্তাপুরের গোল-মরিচের চারা সরবরাহ হচ্ছে সারা দেশে

ছবি: নিজস্ব


সিলেটের জৈন্তাপুরে মসলা জাতীয় উদ্ভিদের মধ্য গোলমরিচের চারা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশব্যাপী জৈন্তাপুর উপজেলা হতে উৎপাদিত চারা সারা দেশে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্যান্য ফসলের মত গোলমরিচ চাষ তুলনামূলক কম পরিশ্রমের। এতে কৃষক পর্যায়ে চারা হাতে পেয়ে তা রোপনের জন্য কোন জমি তৈরী করতে হয় না। সেই সাথে চারা রোপনের জন্য তৈরী করতে হয় না কোন প্রকার মাঁচা বা বেডের।

শুধুমাত্র উঁচু লবনাক্ত জায়গা যেখানে বন্যার পানি প্রবেশ করে না সেই সমস্ত উঁচু জায়গায় বড় গাছের চারপাশে গোলমরিচের চারা রোপন করে সঠিক পরিচর্যা করলে তিন বছরের মধ্যে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব।

গোলমরিচ আমাদের দেশে অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি মশলা জাতীয় খাবার। সাধারণত রসনাবিলাশে অন্যান্য মশলা জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে গোলমরিচ রান্নায় অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে দেশের চাহিদা মেটাতে গোলমরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

কিন্তু দেশে বিশেষ করে সিলেট ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলে যে ভাবে গোলমরিচের চারা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হচ্ছে তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে গোল মরিচ মসলার জন্য বাংলাদেশকে আর আমদানি নির্ভর হতে হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। আর গোলমরিচের চারা উৎপাদনে সফলতার সাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে যে প্রতিষ্ঠান তা হলো সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা অবস্থিত সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত  লেবু জাতীয় ফসলের একমাত্র গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে লেবু,সাতকড়া,বাতাবি,জারা,কমলা,মাল্টা জাতীয় ফসলের চারা উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন মশলা জাতীয় ফসলের চারা উৎপাদন করে থাকে।

এ বিষয়ে মশলা জাতীয় ফসল গোল মরিচের চারা উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ  বিষয়ে কথা হয়, সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ঝুটন চন্দ্র সরকারের সাথে। তিনি প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভর গোল মরিচের চারার প্রথম উৎপাদন হয় ১৯৯৪ সালে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র থেকে। সে সময় প্রথম থেকে এটিকে জৈন্তার গোলমরিচ হিসেবে সারা দেশের কৃষকদের নিকট পরিচিত ছিলো। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণায় এর নাম BARI-1 ( বারী-১) নামে নামকরণ করা হয়।

বর্তমানে বারী-১ নামে এই একটি মাত্র প্রজাতীর মাধ্যমে গোলমরিচের চারা সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে উৎপাদিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন মে মাসের শুরুতে কাটিং চারা সংগ্রহ করে নার্সারিতে চারা রোপন করা হয়ে থাকে। একমাস পরে তা তুলে পলিতে গোবর মাটির মিশ্রণে চারা হিসেবে উৎপাদন করা হয়। চারার দৈর্ঘ্য একফুট পরিমান লম্বা হলে তখন তা রোপন যোগ্য হয়ে উঠে।

তিনি বলেন প্রতিমাসে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র হতে এক হাজারের মত গোলমরিচের চারা উৎপাদন করা হয়। বছরে তা ১০ হাজারের কিছু বেশী হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, উৎপাদিত চারা সমুহ সাধারণ কৃষকদের মাঝে বিক্রির পাশাপাশি দেশের গোলমরিচের উৎপাদন বান্ধব উপজেলা গুলোতে চারাগুলো সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন ভরা বর্ষা মৌসুমে সরবরাহকৃত চারা গুলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সরবরাহ করা  হয়। সেখান থেকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে চারা বিতরণ  করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে গোলমরিচের চারা রোপন ও পরিচর্যায় কৃষক পর্যায়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস।

তিনি আরো জানান, চারা রোপনের পর তিন বছরের মধ্যে গাছগুলো পরগাছার মত বেড়ে উঠে ফলন দেয়া শুরু করে। প্রতিবছর নিয়োমিত পরিচর্যা করলে বছরের শেষ সময় নভেম্বর মাসে গোলমরিচের হারভেষ্টিং শুরু হয়। এ সময় গোল মরিচ গুলো তুলে সঠিক নিয়মে রোদে শুকিয়ে বাজার জাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, গোলমরিচের চাষে কৃষকদের জমি চাষ, মাঁচা, বেড তৈরীর কোন বাড়তি পরিশ্রম করতে হয় না। শুধু মাত্র বাড়ীতে বড় বড় গাছ যেমন, মান্দার,বন্যজাম কিংবা কাঁঠাল গাছ থাকলে তার চারপাশে ছয় থেকে সাতটি চারা রোপন করা যাবে।

জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে গোলমরিচের চারা উৎপাদনের পাশাপাশি নাগামরিচ, তেজপাতা,দারচিনি, কাবাবচিনির মত মশলা জাতীয় ফসলের চারা দীর্ঘদিন যাবত  উৎপাদন ও গবেষণা করে আসছে।

জৈন্তাবার্তা / জারা



শীর্ষ সংবাদ: