ছবি : সংগৃহীত
আগামীকাল শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জানা গেছে, প্রথম টেস্টের ভেন্যু ঢাকার মিরপুরের মতো সিলেটের খেলা হবে সবুজ পিচে।
মিরপুর টেস্টের শেষ দিকে সবুজ পিচে আগুন ঝরানো বোলিং করেছিলেন নাহিদ রানা-তাসকিন আহমেদরা। আর তাতে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। মিরপুরের জয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার সিলেটেও থাকছে সবুজ পিচ।
মিরপুরের মতো সিলেটেও পেসারদের গতি, বাউন্স আর সুইং দিয়েই পাকিস্তানিদের নাস্তানাবুদ করার পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটে উড়ে এসেছেন পিচ মাস্টার টমি হ্যামিং। বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধান অস্ট্রেলিয়ান এ কিউরেটর। মিরপুরের মতো সিলেটেও তিনি বাইশ গজে তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গেই বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে। কী জিজ্ঞাসা ছিল তাঁর তা জানা যায়নি। তবে এটা অন্তত নিশ্চিত পাকিস্তান দলও বুঝে গেছে ঘাসের আগায় গতির আস্ফালন থাকবে সিলেটেও।
সিলেটের এই মাঠে খুব বেশি টেস্ট খেলা হয়নি বাংলাদেশের। গত সাত বছরে মাত্র পাঁচটি টেস্ট খেলেছে তারা এখানে। যার মধ্যে আবার হার তিনটিতে, দুটি কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। তবে সর্বশেষ গেল নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টটি ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিলেন শান্তরা। ৫৮৭ রান তুলেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়রা প্রথম ইনিংসেই। শ্রীলঙ্কাও এই মাঠে চার শতাধিক রানের ইনিংস খেলেছে, যা ইঙ্গিত দেয় স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে পারলে রান আছে।
দলের এক্সপ্রেস বোলার নাহিদ রানার এই মাঠে তিনটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ১১ উইকেট শিকার করেছেন তিনি সিলেটের এই বাইশ গজ থেকেই। যদিও নাহিদ রানা বা তাসকিন নয়, রেকর্ড বলছে সিলেটের এই পিচ বরাবরই আপন করে নিয়েছে দুই স্পিনার তাইজুল আর মিরাজকে। এখানে পাঁচ টেস্ট খেলে ৩১ উইকেটের মালিক তাইজুল, মিরাজের শিকার সেখানে ২২। সব মিলিয়ে দলের বোলিং ইউনিটের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণ আছে এই টেস্টে।
পাকিস্তান দলও জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে নামবে এই টেস্টে। গতকাল বাবর আজমকে দেখা গেল বেশ কিছুক্ষণ অনুশীলন করতে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, মিরপুরে খেলতে না পারলেও সিলেট টেস্টে থাকছেন তিনি। সৌদ শাকিলের বদলে একাদশে দেখা যেতে পারে তাঁকে। সেই সঙ্গে মিরপুর টেস্ট হারার পর পাকিস্তানের দল সাজানো নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছে তাদের সাবেকদের মধ্যে। দলের অন্যতম সেরা স্পিনার সাজিদ খানকে না খেলানোটা ভুল ছিল বলে মনে করেছেন তাদের অনেকে। সিলেটে তাই সাজিদকেও দেখা যেতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের অনেক ভাবনাচিন্তা করতেই হবে। কেননা সিলেটের সবুজ পিচ দেখে যদি তারা তিন পেসার আর দুই স্পিনারকে একাদশে রাখেন, তাহলে একজন অলরাউন্ডারকে বাদ দিতেই হবে।
তবে সেসব অতিথি দলের ব্যাপার। বাংলাদেশ দল আপাতত নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। দলের মিডল অর্ডার থিতু হয়ে আছে, বোলিং বিভাগেও নড়চড় হচ্ছে না। শুধু ওপেনিং জুটি নিয়ে ভাবনার জায়গাটি থেকেই যাচ্ছে। সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়– দুই ওপেনার মিলে মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে মোট ৩৬ রান নিতে পেরেছিলেন। তবে বুকে ব্যথার কারণে এই টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন সাদমান। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়েছে জাকির হাসানকে। এখন অপেক্ষা দেখার তানজিদ তামিমের টেস্ট অভিষেক হবে না কি ফেরানো হবে জাকিরকে।
জৈন্তাবার্তা / আরআর




