প্রতীকী ছবি
সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি সদস্যসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেইন পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে চোরাচালানের ৬টি গরু আটক করেন জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির সদস্যরা।
ওই সময় বিজিবি সদস্য হাবিলদার মো. কামাল হোসেন (৪৭) ও ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুকসহ ৫/৬ জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় টহলরত ৫-৬ জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ১ জন বিজিবি সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ৫-৬ রাউন্ড গুলি (স্থানীয়দের ভাষ্যমতে আরও বেশি) ছোঁড়েন। অপরদিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে সাধারণ জনতাকে উস্কে দেয় চোরাকারবারিরা। এর ফলে বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এদিকে, ওইদিন বিজিবির গুলিতে আহত হন মো. আতিক আহমেদ (২০)। আরও আহত হন মো. রায়হান মিয়া (২৮) ও নুরজাহান (৫০)। এ ছাড়া জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম (৪৩) মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন।
আহতদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুরুতর অবস্থায় মো. আতিক ও বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গুলিবিদ্ধ আতিক গৌরিশঙ্কর গ্রামের মৃত নূর নবীর ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকাসহ ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হরিপুর গ্যাসফিল্ড সেনাক্যাম্পের (২৭ বীর) টহলদল। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিজিবি সদস্যদের বিওপিতে পৌঁছে দেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে ও বর্তমানে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
এ বিষয়ে ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




