ছবি:সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত ও ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভোটার, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর কিছু সমর্থক রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গুজব, মিথ্যা ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তবে এসব অপকৌশলে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন না; বরং তারা আগের চেয়ে বেশি সচেতন ও সতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও, ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে-যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে নির্দিষ্ট এক প্রার্থী ও তার সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, ইসলামী সুন্নি ফ্রন্টের আলোচিত বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে এসব অভিযোগের কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চুনারুঘাটের সাঁটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দেওগাও এলাকার সাবেক মেম্বার নুরুল হক বলেন, রোববার দুপুরে ওই এলাকায় এক প্রার্থীর সমর্থনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চলছিল। এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও তার অনুসারীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেখানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত একটি নাটক ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করা যায়। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক তাহেরিকে বাধা দেয়নি।
চুনারুঘাটের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিপন বলেন, “শুরুর দিকে আমরাও মনে করেছিলাম হয়তো সত্যিই কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে দেখি-ঘটনার ভিডিও সাজানো,এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। এগুলো ভোটের মাঠ অশান্ত করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।”
স্থানীয় তরুণ ভোটার মোশারফ বলেন, ‘কিছু লোক নিজেদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি করে সেটাকে রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে প্রচার করছে। কিন্তু আমরা এখন আর আগের মতো সহজে গুজবে বিশ্বাস করি না। আমরা তথ্য যাচাই করি।’
চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহানুভূতি আদায়ের জন্য এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। তবে এবারের ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন, শিক্ষিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত। ফলে তারা সহজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তাঁর মতে, প্রার্থীদের উচিত মিথ্যা নাটক বা গুজবের আশ্রয় না নিয়ে জনগণের জন্য কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




