বিমানবন্দরে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নি/রাপত্তা ত/ল্লাশি
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ AM

ভিআইপি-সিআইপি হলেও ছাড় নয়

বিমানবন্দরে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নি/রাপত্তা ত/ল্লাশি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৮/২০২৬ ০৮:৪২:৪৪ PM

বিমানবন্দরে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নি/রাপত্তা ত/ল্লাশি

ছবি:সংগৃহীত


কিংবা সিআইপি-কোনো পরিচয়ই আর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি এড়ানোর সুযোগ দেবে না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণ মাথায় রেখে আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেন তিনি।

আফরোজা খানম বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নির্বিঘ্ন ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এনসিএসসির এ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্ক্যানার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি ও অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম বন্ধে ক্যাব, এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ