ছবি : সংগৃহীত
টরন্টোতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াল স্বাগতিক কানাডা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কানাডা। ১৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড এক দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন। তানি ওলুয়াসেয়ির পাস থেকে পাওয়া বল বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ চমৎকারভাবে তা রুখে দেন।
এরপরই ২১তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। কর্নার থেকে আসা বল সেয়াদ কোলাসিনাচ হেডে ফ্লিক করে বক্সে পাঠান, আর সেখানে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান জোভো লুকিচ। এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। প্রথমার্ধ শেষে ১–০ গোলে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
টরেন্টোর স্টেডিয়ামে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম হোম ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও বিরতির আগ পর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি কানাডা। ইনজুরির কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকা আলফানসো ডেভিস মাঠে না থাকায় আক্রমণে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। অন্যদিকে বসনিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এডিন জেকো শুরু থেকে একাদশে না থাকলেও দলকে এগিয়ে রাখতে সহায়তা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিক কানাডা। একের পর এক আক্রমণ করেও শেষ মুহূর্তে সফলতা মিলছিল না। তবে ৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করেন কাইল লেরিন।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল করতে না পারায় ম্যাচটি ১–১ সমতায় শেষ হয়। এই ফলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্টের মুখ দেখল কানাডা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে কানাডার ফলাফল একেবারেই আশানুরূপ ছিল না। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল। ‘গ্রুপ সি’-তে থাকা কানাডা সেই আসরে কোনো গোল করতে পারেনি এবং টেবিলের সর্বশেষ অবস্থানে থেকে বিদায় নেয়।
২০২২ সালে কাতারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কানাডা গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচেই হেরেছিল (বেলজিয়াম ১-০, ক্রোয়েশিয়া ৪-১ এবং মরক্কো ২-১ ব্যবধানে)। তবে সেই আসরে তারা বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিল।
স্বাগতিক হিসেবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা ইতোমধ্যে শুভসূচনা করেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে কানাডা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দাপুটে জয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী করে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে সহ-স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
ফোলারিন বালোগানের জোড়া গোল, একটি আত্মঘাতী গোল এবং শেষ মুহূর্তে জিওভানি রেইনার শৈল্পিক ফিনিশিংয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই সেই আধিপত্যের প্রতিফলন দেখা যায় স্কোরবোর্ডে। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলে ওয়েস্টন ম্যাককেনি প্যারাগুয়ের বক্সে ঢুকে পড়েন।
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ের পর ম্যাককেনির কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এর মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম আত্মঘাতী গোলের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে বসেন তিনি।
গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে পুলিসিক ও টাইলার অ্যাডামসের সমন্বয়ে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন ফোলারিন বালোগান। কিন্তু ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি, কারণ আক্রমণের সূচনায় পুলিসিক অফসাইডে ছিলেন।
যদিও হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই বাম প্রান্ত থেকে পুলিসিকের বাড়ানো পাস প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বালোগান। ৩১ মিনিটে করা এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও থামেনি মার্কিন আক্রমণ। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে মালিক টিলম্যানের নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন বালোগান। তার জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ৫০ মিনিটে মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করেছেন মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিমকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো স্পর্শ ছাড়াই পড়ে গিয়েছিলেন আলমিরন। ফলে রিমের কার্ড বাতিল করে উল্টো অভিনয়ের দায়ে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ব্যবধান কিছুটা কমাতে সক্ষম হয় প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষকের লম্বা বল থেকে আক্রমণ শুরু করে আলমিরন এনসিসোকে পাস দেন। এনসিসোর বাড়ানো বল ধরে বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও ডান কোণ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান।
কিন্তু সেই আশা বেশি দূর এগোতে পারেনি। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আবারও আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে ফ্রিম্যানের পাস থেকে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন জিওভানি রেইনা। এরপর দারুণ এক বাঁকানো শটে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
রেইনার শেষ মুহূর্তের গোলের সুবাদে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই শক্তিমত্তার বার্তা দিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করল পচেত্তিনোর দল।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




